তৃণমূল প্রতিনিধি:
কয়েকদিন যাবত একটি বেনামি ও মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই অসন্তোষ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের মানহানি এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ও সহকর্মীদের দাবি, শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে চান, কিন্তু তার নেতৃত্ব মানতে রাজি নন বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা।
গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের অভিযোগ বাক্সে বিদ্যালয় সম্পর্কিত একটি নামবিহীন অভিযোগ পত্র জমা পড়ে। ওই আবেদনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান, ইংরেজি শিক্ষক নাজমুল হাসান, গণিত শিক্ষক ওমর ফারুক এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) শিক্ষক কে এম জামাল হায়দারসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মনগড়া অভিযোগ তোলা হয়। পাশাপাশি এতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের মতে, সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে এই মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়ানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সহকারী শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক ও তার স্ত্রী নিজ বাসভবনে নিয়মিত প্রাইভেট পড়াতেন। তবে শিক্ষার্থীদের প্রবল আগ্রহ ইংরেজি শিক্ষক নাজমুল হাসান ও গণিত শিক্ষক ওমর ফারুকের কাছে পড়ার পক্ষে থাকায়। আবু বক্কর সিদ্দিক ঈর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন সময় ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে বিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আসছেন। এছাড়া নিজের প্রভাব বিস্তার ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে তিনি এই বেনামি আবেদনটি করিয়েছেন বলে সহকর্মীদের দৃঢ় ধারণা।
এর প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ৩ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী একজোট হয়ে সহকারী শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিককে সামাজিকভাবে ও দাপ্তরিকভাবে বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান এই বেনামি আবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও হীন চক্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিককে বয়কট করার একটি লিখিত আবেদন তিনি পেয়েছেন।
এ বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাসিবুল হাসান আগামী বুধবার বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এইচ এম জুয়েল